দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তারের পরই এবার তদন্তকারীদের নজরে তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি।আজ, বৃহস্পতিবার তাঁকে প্রায় ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের একাধিক বাড়িতে তল্লাশিও চালান তদন্তকারীরা।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দেবরাজের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছে। তদন্তকারী সূত্রে খবর, দেবরাজের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে অদিতি কতটা জানতেন, তা স্পষ্ট করতে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের সূচনা। ২০১৩ সালে পুরসভার উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন দেবরাজ। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। ২০১৫-তেও মেলেনি টিকিট। তারপর কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। বিধাননগর পুরনিগম এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়েন তিনি। জিতেওছিলেন। পরবর্তীতে ফিরে যান তৃণমূলে। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন রাজনীতিতে। ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর আসনে বিধায়ক হন তিনি। দেবরাজের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি দেবরাজ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দেবরাজ ও অদিতির বিরুদ্ধে তদন্ত করছিল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। রক্ষাকবচের আবেদন হাই কোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পর থেকেই পুলিশ দেবরাজকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। এরপরই বুধবার পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকার হোটেল থেকে দেবরাজকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার ধৃত দেবরাজকে বারাসত আদালতে তোলা হয়। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে আদালত চত্বরে হয় ডিমবৃষ্টি। দেবরাজকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
অদিতিকে জিজ্ঞাসাবাদ; দেবরাজকে আদালতে ডিম হামলা
নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতাই; ল্যাবে তিলোত্তমার স্যাম্পেলে কী মেশানো হয়? পড়ুন
সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত SIR-এ বাদ পড়ারা; মামলা দায়ের হাইকোর্টে
![]() |
এসআইআরে বাদ পড়াদের রেশন ও অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ একাধিক প্রকল্পের সুবিধা ও টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে এবার জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে। পশ্চিমবঙ্গ খেতমজদুর সমিতির তরফে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শওকত মোল্লার ছেলের ক্যাফেতে চলল বুলডোজার!
শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার ক্যাফেতে চলল বুলডোজার। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্যানিংয়ের মৌখালিতে ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু করল প্রশাসন। মাতলা নদীর চর দখল করে অবৈধভাবে এই ক্যাফে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আগেই ক্যাফেটি ভাঙার নোটিস দিয়েছিলেন মহকুমাশাসক। আজ ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করা হল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা গ্রেপ্তারির পর নজরে এসেছিল তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লার মালিকানাধীন এই ক্যাফেটেরিয়াটি। এই ক্যাফেটির নাম 'অরণ্যের কুলে'।
জানা গিয়েছে, বাবা বিধায়ক থাকাকালীন মৌখালি সেতু সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার উপরেই মাতলা নদীর চরের উপর এই ক্যাফে তৈরি করেছিলেন ছেলে ইমরান। নিয়মের তোয়াক্কা না করে দিব্যি চলছিল ব্যবসা। কিন্তু পালাবদলের পর বদলে যায় সব হিসাব। ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ-র হাতে ভাঙড়ের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা গ্রেপ্তার হন। এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে নজরে পড়ে তাঁর ছেলের বেআইনি ক্যাফের বিষয়টি। অভিযোগ উঠেছে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ক্যাফেটি তৈরি করা হয়েছিল। এই নিয়ে হইচই শুরু হতেই ইমরানকে ক্যাফের সব কাগজপত্র নিয়ে মহকুমাশাসকের অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেসব পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, মাতলার চরে সেচ দপ্তরের জমি দখল করে বিশাল ক্যাফেটেরিয়াটি তৈরি করা হয়েছিল, যার কোনও বৈধতা নেই। তথ্য খতিয়ে দেখার পর ক্যাফেটি ভাঙার নির্দেশ দেন মহকুমাশাসক। এরপর আজ সকালে ঝাঁ চকচকে এই ক্যাফে ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন।






