চার বছর ধরে চলতে থাকা বিতর্কের অবসান হল। টেটের প্রশ্ন ফাঁস মামলায় হাইকোর্টে বড় জয় রাজ্যের। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে এটা মেনে নিয়েছে আদালত। কিন্তু তার প্রভাব পরীক্ষায় পড়েনি বলেই পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরীক্ষা বাতিলের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এর ফলে রাজ্যে নিযুক্ত চল্লিশ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের বড়োসড়ো আইনি জট কাটল।
এখন থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য জারি হয়েছিল টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্টের বিজ্ঞপ্তি। পরের বছর এগারোই অক্টোবর পরীক্ষা হয়। পরীক্ষা শুরুর সময় ছিল দুপুর দু-টো। কিন্তু এক ঘণ্টা আগেই, তাঁদের হলে ঢুকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা শুরুর খানিক আগেই গড়িয়াহাট থানায় দায়ের হয়েছিল প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ। যদিও পরে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতির নির্দেশে, প্রশ্ন ফাঁসের তদন্ত শুরু করেন কলকাতা পুলিশ। পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে হাইকোর্টের সিবিআই তদন্ত ও পরীক্ষা বাতিল চেয়ে মামলা দায়ের হয়। পরীক্ষা বাতিলের যুক্তিতে বলা হয়, সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়া ৮ পাতার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিল টেস্টের। পরীক্ষার অনেক আগেই রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই প্রশ্ন। পরীক্ষার স্বচ্ছতার স্বার্থে নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্ত হোক। পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হোক। যদিও চার্জশিটে কলকাতা পুলিশের জানায়, প্রশ্ন ছড়িয়ে গেলেও, তার প্রভাব পরীক্ষা হলের মধ্যে পড়েনি। কারণ, অনেক আগেই পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয় টেট মামলার শুনানি। তারও সাড়ে দশ মাস পর রায় ঘোষণায় কলকাতা পুলিশের চার্জশিটকেই মান্যতা দিয়েছে হাইকোর্ট।
Loading...
loading...
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন